Jump to content

বানিয়াচং মীরমহল্লা

Play
Season 1, episode 2
8 min / Published

হবিগঞ্জ জেলার অন্তর্গত বানিয়াচং উল্লেখযোগ্য থানা, আর সেই থানায় এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচং যা ছিলো লাউওর রাজ্যের রাজধানী।এখানে বাস করতেন রাজ্যের রাজাগণ । সে যুগে নৌ যোগাযোগ ছিল অত্যান্ত উণ্ণত। ১২ মাইল উত্তর-পশ্চিমে বালি দক্ষিণ-পশ্চিমে ব্রহ্মপুত্র, তিতাস গড়ে ওঠেছিল তাঁর পুরােভাগে ছিলে আধ্যাত্মিক সাধকগণ ।আনুমানিক ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে।আন্তর্গত বানিয়াচং একটি উল্লেখযােগ্য থানা আর সেই থানায় এশিয়া আর গাম বানিয়াচং, যা ছিল লাউড় রাজ্যের রাজধানী। এখানে বাস করতেন।বে যাগ নেী যােগাযােগ ছিল অত্যন্ত উন্নত। জেলা শহর থেকে মাত্র মে বানিয়াচং গ্রাম। বর্তমানে সড়কপথ খুবই উন্নত, হবিগঞ্জের cল বহ্মপুত্র, তিতাস, গােমতী ও খােয়াই নদীর তীর বেয়ে যে মুসলিম সভ্যতা দিল তার পুরােভাগে ছিলেন হযরত সৈয়দ শাহ নাসির উদ্দিন (রহ)-এর অধস্তননিক ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে হযরত সৈয়দ শাহ নাসির উদ্দিন (রহ.) সাহেবের নবম। হযরত সৈয়দ শাহ নূর আহমদ (রহ.) তরফের নরপতি থেকে স্থান পরিবর্তন করেন।

জানা যায় তিনি একটি বিলের চরের মধ্যে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে বৃহৎ বাড়ি নির্মাণ র আয়ীভাবে বসবাস শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে সেই এলাকা তার নামে নরচর গ্রাম। নামে পরিচিতি লাভ করে। তার পুত্র সৈয়দ শাহ মুহসিন ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দে তরফের উত্তরপর্ব প্রান্তে খােয়াই নদীর তীরে অবস্থিত ইনাতাবাদ নিবাসী সৈয়দ শাহ আবুল কাসিমের। কন্যা অর্থাৎ সৈয়দ শাহ ইনায়েত উল্লাহর ভগ্নিকে বিবাহ করে ইনাতাবাদে স্থায়ী হন।

সৈয়দ শাহ মুহসিনের পুত্র সৈয়দ শাহ ওয়াজিহ উদ্দিন ছিলেন সুবিচারক (কাজি)। বিজ্ঞ তরুণ বিচারকের দক্ষতা, যােগ্যতা ও সততায় সমাজের সকলেই তাকে সম্মান করত। কথিত আছে বানিয়াচঙ্গের রাজা বাহাদুর তার ইলমে জ্ঞান প্রতিভা ও বিচারকার্যে সন্তষ্ট হয়। রাজ দরবারে (কাজি) বিচারক পদে নিয়ােগ দিয়েছিলেন এবং শরিফ খান্দান জেনে নিজ। পরিবারভুক্ত করেছিলেন। তিনি ১৬৮০ খ্রিস্টাব্দে দেশ বিখ্যাত রাজা বাহাদুর দেওয়ান। আবিদুর রাজার কন্যা অর্থাৎ দেওয়ান উমেদুর রাজার ভগ্নি দেওয়ান আসমা বানুকে বিবাহ করে ইনাতাবাদ হতে বানিয়াচং গ্রামের পূর্বগড় মহল্লায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। দেওয়ান উমেদুর রাজা কয়েকটি তালুক ভগ্নীপতির সম্মানে মদতমাস স্বরূপ দান করেন। | আধ্যাত্মিক সাধক পুরুষ সৈয়দ শাহ ওয়াজিহ উদ্দিন (রহ.) ১৭২০ সালে দেহত্যাগ করেন, তার মাজার বানিয়াচং পূর্বগড় (মীরমহল্লা) অবস্থিত। জনশ্রুতি আছে যে, তাঁর মাজার প্রতি শুক্রবারে গভীর রাতে একরকম আলােকরশি দেখা যেত এবং মাজারেরপাশে আতর-গােলাপের ঘ্রাণে মুহিত হয়ে উঠত। যা আজও লােকমুখে শােনা যায়। য়দ শাহ ওয়াজিহ উদ্দিনের পুত্র মীর সৈয়দ গােলাম হাফেজ দিল্লির তৎকালীন সম্রাট।তার সম্মানস্বরূপ তাঁকে মীর উপাধি দেন। তিনি আরবি ও ফারসি ভাষায়। নি। তিনি লাতুর (কুলাউড়া) মুন্সেফ কোর্টের মীর মুন্সেফ (প্রধান বিচারক)!( পূবগড় মৌজার যে মহল্লায় তিনি বাস করতেন তা মীর সাহেবের সম্মানেই মীর মহল্লা নামে রেকর্ডকৃত হয় যা অদ্যাবধি পূর্বৰ্গড় মীরমহল্লা নামে খ্যাত। তিনি প্রথম বিবাহ করেন দেওয়ান উমেদুর রাজার কন্যা দেওয়ান রচান বানু (মামাতাে বােন) এই পক্ষে সৈয়দ গােলাম ইমাম সৈয়দ আবু ইমাম, সৈয়দ ছকিনা বানু ও সৈয়দা আলিমা বানু।

পরবর্তীতে তিনি গড়পাড়া মৌজার হেমিয়ার পাড়ার মিরাশদার জনাব খন্দকার হেসুউজ্জামান সাহেবের কন্যা খন্দকার ফাতিমা খানমকে দ্বিতীয় বিবাহ করে সেখানে চলে যান। তিনি ছিলেন নিঃসন্তান। একইভাবে ঐ বাড়িটির নাম মারবাড়ি নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। যা অদ্যাবধি মীরবাড়ি নামে রেকর্ডভুক্ত। | মীর সৈয়দ গােলাম হাফেজ, মাওলানা সৈয়দ গােলাম ইমাম, মৌলবি সৈয়দ আলী ইমাম, মৌলবি সৈয়দ হােসেন ইমাম ও মৌলবি সৈয়দ আব্দুল আলীসহ অনেকেই হেমিয়ার পাড়া জামে মসজিদ ও দিঘির দক্ষিণ পাশে চির নিদ্রায় শায়িত। মারবাড়ির পাশ দিয়েই বানিয়াচং-এর ঐতিহ্যবাহী গড়েরখাল বয়ে গেছে যা তৎকালীন রাজা গােবিন্দ খাঁ (ধর্মান্তরিত রাজা হাবিব খা) বহিঃশত্রুর আক্রমণ হতে রাজ্যের রাজধানী বানিয়াচংকে। সুরক্ষিত রাখার জন্য বানিয়াচং গ্রামের চতুর্দিকে নদীসম খাল খনন করেছিলেন। যা দিয়ে প্রতিদিন শতশত নৌকা চলাচল করত। এ খালের অদূরেই যাত্রাদিঘি। এই দিঘিতে শ্রাবণ। ও ভাদ্র মাসের প্রতি সােমবার নৌকা দৌড় হতাে। দৌড়ের নৌকা যাওয়ার একমাত্র রাস্তা ছিল এই গড়ের খাল । তাছাড়া মুসলমান ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন উৎসবের সময় অর্থাৎ বিয়ে ও পূজা-পার্বণে গান-বাজনা, আতশবাজি করে এই খাল দিয়ে নৌকা নিয়ে আসাযাওয়া করত । কিন্তু মীরবাড়ির কাছে আসার আগেই অলিদের মাজারের সম্মানার্থে সব ধরনের গান-বাজনা বন্ধ করে দেয়া হতাে। যা আজ অবধি এই রেওয়াজ প্রচলিত আছে।। মীর সৈয়দ গােলাম হাফেজের (মীর মুন্সেফ)-এর পুত্র মাওলানা সৈয়দ গােলাম ইমাম উচ্চ শিক্ষার জন্য কলকাতায় চলে যান।

কোনাে এক সময় বানিয়াচং মুন্সেফ কোর্ট (ভিলেজ ব্যাঞ্চ) কামালখানি মৌজা থেকে। স্থানান্তরিত হয়। উল্লেখ্য মুন্সেফ কোটটি বর্তমান মীরমহল্লা সাহেববাড়িতেই ছিল। সরকার উক্ত ভূমি নিলাম করলে মাওলানা সৈয়দ গােলাম ইমাম (মুন্সেফ) সাহেব খরিদ করেন এবং এই ভূমি তার সম্মানার্থে সরকার কর্তৃক লাখেরাজ হিসেবে পান। যা পরবর্তীতে সৈয়দ গােলাম ইমাম পাট্টা নামে রেকর্ডভুক্ত হয়ে মীরমহল্লা নামে পরিচিতি লাভ করে। বর্তমান সাহেববাড়ির গােড়াপত্তন করেন সৈয়দ গােলাম ইমাম সাহেব। সামনে বিশাল দিঘী, মসজিদ, মক্তব, মাদ্রাসা থাকায় বাড়িটির শ্রী আরাে বৃদ্ধি করেছে। তার পরবর্তী বংশধরগণ। এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছেন।

| ঐতিহাসিক দিক দিয়ে মীরমহল্লা সাহেববাড়িটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানিত এবং অন্যান্য স্থানের সৈয়দগণের মতােই আপন গুণে গুণান্বিত। যদিও আজ আর কিছু নেই স্মৃতি ছাড়া।

Episode ratings
Please log in or sign-up to rate this episode.
This episode is part of the Dr Elias series
exponentials.tv উত্পাদনশীলতা, আর্থিক, স্বাস্থ্য, ফিটনেস, মাইন্ডফুলেন্স ইত্যাদি বিষয়গুলি নিয়ে বর্তমান বিশ্বের সাফল্য এবং বৃদ্ধির গল্পগুলিকে কেন্দ্র করে
exponentials.tv
A podcast by exponentials.tv
exponentials.tv - a web 3 media outlet focusing on todays exponential success stories and the metaverse.
Episode comments

Join the conversation

You can post now and register later. If you have an account, sign in now to post with your account.

Guest
What do you think about this episode? Leave a comment!

×   Pasted as rich text.   Restore formatting

  Only 75 emoji are allowed.

×   Your link has been automatically embedded.   Display as a link instead

×   Your previous content has been restored.   Clear editor

×   You cannot paste images directly. Upload or insert images from URL.

×

Important Information

By using this website, you accept the use of cookies in accordance with our Privacy Policy.